চট্টগ্রাম এক্সপ্রেস প্রতিনিধি
চট্টগ্রামে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ–সংঘাতের ঘটনার মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ব্যানারে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে চারটি পৃথক বিক্ষোভ মিছিল করেছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রতিবাদে হারিকেন হাতে কর্মসূচিসহ এসব মিছিল ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার বিভিন্ন সময়ে তিনটি মিছিল বের করে ছাত্রলীগ।
স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে এবং ফেসবুকে প্রকাশিত ভিডিও বিশ্লেষণ করে এসব মিছিলের উপস্থিতি ও গতিবিধি নিশ্চিত হওয়ার দাবি পাওয়া গেছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি যাচাই-বাছাই চলছে বলে জানানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও এলাকায় ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের মধ্যে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকসু নেতা ও সাংবাদিকদের মারধরের মতো ঘটনাও আলোচনায় এসেছে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের একাধিক মিছিলকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ‘সংঘাতময় পরিবেশে সুযোগ গ্রহণের চেষ্টা’ হিসেবেও দেখছেন। যদিও এ বিষয়ে ছাত্রলীগের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মিছিলগুলোর মধ্যে প্রথমটি হয় বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে। এতে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি তালুকদার পারভেজ আনসারীর নেতৃত্বে হারিকেন হাতে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রতিবাদে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে সড়ক প্রদক্ষিণ করেন।
শুক্রবার সকালে ও দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের জিইসি, দুই নম্বর গেট, লালখান বাজার ও সিআরবি এলাকায় পৃথকভাবে আরও তিনটি মিছিল অনুষ্ঠিত হয় বলে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে।
জিইসি এলাকার মিছিলটি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শুরু হয়ে গোলপাহাড় মোড়ের দিকে যায়। এতে এমইএস কলেজ ছাত্রলীগের ব্যানারে শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেয় বলে জানা গেছে। মিছিলে আওয়ামী লীগের সমর্থনে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
অন্যদিকে দুপুরে দুই নম্বর গেট এলাকায় আরেকটি মিছিল মোড় থেকেই শুরু হয়। এতে শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেয় বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। এই মিছিলে এমইএস কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি ওয়াসিম উদ্দিনের অনুসারীরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
একই দিনে সিআরবি এলাকা থেকে শুরু হওয়া আরেকটি মিছিল টাইগারপাসের দিকে অগ্রসর হয়। সেখানে শেখ হাসিনার সমর্থনে স্লোগান দিতে দেখা যায় অংশগ্রহণকারীদের। এই মিছিলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল আলম লিমনের অনুসারীরা অংশ নেন বলে দাবি করা হয়েছে।
একযোগে বিভিন্ন এলাকায় মিছিল হওয়ায় এটি স্বতঃস্ফূর্ত নাকি সংগঠিত কর্মসূচি- এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে চলমান রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যে এই ধরনের মিছিলকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
মিছিলের পর নগরের প্রধান সড়কগুলোতে নজরদারি ও তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ বলেন, আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। মিছিলগুলোর ভিডিও পর্যালোচনা করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দেশজুড়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘর্ষের ঘটনার মধ্যে চট্টগ্রামে একাধিক মিছিল হওয়ায় প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলেও জানা
Leave a Reply